🌺🌻হরিঅব্দ🌻🌺
স্মারক নং: মতুয়া সমাজ/২১৫/স্মারকলিপি/০০১
তারিখ:
১লা তারক, ২১৫ হরিঅব্দ. ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
স্মারকলিপি
বরাবর,
সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক,
শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ও দেবী সত্যভামা মন্দির সংস্কার কমিটি
শ্রীধাম ওড়াকান্দি, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ।
বিষয়: শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ও দেবী সত্যভামা মন্দিরের চূড়ায় ত্রিশূলের পরিবর্তন করে ‘জয় পতাকা (সাদা বেষ্টনীযুক্ত লাল নিশান)’ স্থাপন এবং মন্দিরের গাত্রে অংকিত স্বস্তিকা চিহ্ন পরিবর্তন করে মতুয়া সংস্কৃতি ধারণ করে এমন কোনও চিহ্ন স্থাপনের দাবি।
মহোদয়,
আমরা, পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর প্রবর্তিত স্বাধীন ও স্বতন্ত্র মতুয়া দর্শন ও মতুয়াধর্মের অনুসারীগণ-সহ অগণিত ভক্তবৃন্দ, আজ গভীর শোকে ও আদর্শিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করি যে, শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতে বর্ণিত শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের মুখনিঃসৃত বাণী “ভিন্ন সম্প্রদায় মোরা ‘মতুয়া’ আখ্যান” অনুসারে সনাতনধর্মবলয়ের গর্ভগৃহ থেকে সৃষ্টি হয়েও মতুয়ারা ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র। শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতে স্পষ্ট উচ্চারিত হয়েছে যে, মতুয়ারা আলাদা মতপথের অনুসারী, যেমনটা বলা হয়েছে,
‘নাহি মানে দেব দ্বিজ আলাহিদা পথ।
ইহারা হ’য়েছে এক হরিবলা মত।।’
মতুয়ারা যেমন ভিন্ন ও স্বতন্ত্র সম্প্রদায়, তেমনই কালের পরিক্রমা ও বিবর্তনে এই ভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মও স্বাধীন ও স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে, যে বীজ সুপ্ত ছিল ঠাকুর হরিচাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে, বচনে-মননে। এই স্বতন্ত্র সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি। হরিচাঁদ ঠাকুরের সময়কালে মতুয়া সম্প্রদায় গঠনকালে মতুয়া সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে এসব বাণীতে। মতুয়া সম্প্রদায়কে স্বতন্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এরকম আরও অনেক অনেক বাণী বা নির্দেশনা
শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত, শ্রীশ্রীহরি-গুরুচাঁদ চরিত্র সুধা, শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিত, শ্রীশ্রীমহাসংকীর্তন, শ্রীশ্রীহরিসঙ্গীত-সহ অনেক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। প্রচলিত সনাতনধর্মীয় সমাজব্যবস্থার গর্ভগৃহ থেকে বের হয়ে মতুয়ারা পৃথক সমাজব্যবস্থা গঠন করেছে। তাঁদের বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতিই তার বড়ো প্রমাণক।
পৃষ্ঠা: ১/৬
পূর্ববর্তী সমাজব্যবস্থার অনেক কিছুই হয়তো মতুয়া সমাজ গ্রহণ করেছে, কিছু সরাসরি, কিছু পরিবর্তিতরূপে, কিছু একদম নতুনভাবে। যে বৈশিষ্ট্যগুলো নতুন এবং যেগুলো মতুয়া দর্শনের মূল বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ না-থাকায় গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোই আসলে মতুয়া সমাজের মৌল বৈশিষ্ট্য এবং স্বতন্ত্রতার পরিচায়ক। এর মধ্যে রয়েছে সাদা বেষ্টনীযুক্ত লাল নিশান বা জয় পতাকা, ডংকা, কাশী, শিঙ্গা, কাঁসর ইত্যাদি।
ডঙ্কা-কাসর-শিংগা-করতাল সহযোগে সাদা বেষ্টনীযুক্ত লাল নিশান শুধু মতুয়া ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ নয়, এটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্রতারও প্রতীক; প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রত্যয়। যে ওড়াকান্দি আমাদের কাছে মুক্তির ধ্রুবতারা, যে মাটি আমাদের কাছে হাজার বছরের শাস্ত্রীয় শৃঙ্খল ও বর্ণবাদী প্রতীকের বিরুদ্ধে মানবিক বিদ্রোহের প্রতীক, আজ সেই পবিত্র ভূমিতেই আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত আদর্শের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে; নির্মাণাধীন ‘শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ও দেবী সত্যভামা মন্দির’-এর চূড়ায় জয় পতাকার পরিবর্তে ত্রিশূল দেখে মতুয়াদের হৃদয়ে অবিরল ধারায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
আদর্শিক বিচ্যুতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: দার্শনিক পর্যালোচনা
মতুয়াধর্ম কোনো প্রাচীন পৌরাণিক ধর্মের অনুবৃত্তি নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র সত্তা। শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ঠাকুর স্পষ্ট বলেছিলেন, "ভিন্ন সম্প্রদায় মোরা ‘মতুয়া’ আখ্যান"। মতুয়া সমাজ প্রচলিত সনাতনধর্মীয় সমাজব্যবস্থার গর্ভগৃহ থেকে বের হয়ে নতুন এক সমাজব্যবস্থা গঠন করেছে। অথচ, সম্প্রতি মন্দিরের চূড়ায় ‘ত্রিশূল’ এবং গাত্রে ‘স্বস্তিকা’ স্থাপন করে সেই স্বতন্ত্রতাকে লুণ্ঠন করা হচ্ছে। এটি কেবল স্থাপত্যের ভুল নয়, এটি মতুয়াদের ‘আলাহিদা পথ’ মুছে দিয়ে বৈদিক-পৌরাণিকতার খাঁচায় বন্দি করার সুগভীর ষড়যন্ত্র। যারা ত্রিশূলের মাহাত্ম্য নিয়ে তর্কে লিপ্ত হচ্ছেন, তাঁদের জানা প্রয়োজন—ত্রিশূল ভালো নাকি খারাপ, তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং ত্রিশূল মতুয়াদের সংস্কৃতির অংশ নয়—এটাই আমাদের একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।
শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতেও অনুরূপ ভাব প্রকাশিত হয়েছে,
কবে বা উড়িবে হরি নামের নিশান।
নেহারিয়া সেই মেলা জুড়াইব প্রাণ।।
--- শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত।
মতুয়া সাহিত্যের জনক কবি-রসরাজ শ্রীমৎ তারকচন্দ্র সরকার মহাসংকীর্তনে ব্যক্ত করেছেন,
“পাগলের ডঙ্কা বাজে হরিচাঁদ বলে
নগরে জয়ধ্বনি করে সকলে।
উড়িতেছে জয় পতাকা হরিনামের হিল্লোলে –”
শাস্ত্র ও সংগীত যেখানে কেবল ‘নিশান’ বা ‘পতাকা’ ওড়ানোর কথা বলে, সেখানে ‘ত্রিশূল’ স্থাপন করা শাস্ত্রীয় বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন এবং মতুয়া সংস্কৃতির সুস্পষ্ট ব্যত্যয়।
ত্রিশূল ভালো নাকি খারাপ, ত্রিশূল কী ধারণ করে, ত্রিশূলের মাহাত্ম্য কী – সেসব না বিচার করেও বলা যায় যে, ত্রিশূল মতুয়াদের ধর্ম বা মতুয়াদের সংস্কৃতির অংশ নয়। এটি তন্ত্র সাধনার অংশ। শিব ঠাকুরের সঙ্গেই ত্রিশূল থাকে। মতুয়াদের মন্দিরে ত্রিশূল একদম বেমানান। যারা পৌরাণিক ধারায় গুরুচাঁদ ঠাকুরকে শিবের অবতার কল্পনা করেন, তাঁদের যুক্তি যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ত্রিশূল মতুয়াদের মন্দিরে থাকতে পারে না। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, গুরুচাঁদ ঠাকুর শিবের অবতার; কিন্তু গুরুচাঁদ ঠাকুর শিবের রূপে নাই। শিব একটা সমাজের প্রতিনিধি ছিল, গুরুচাঁদ ঠাকুর ভিন্ন সময়ে ভিন্ন একটি সমাজের প্রতিনিধি। শিবকে শমনদেবতা বলা হয়, মৃত্যুর প্রতীক; শ্মশানে থাকে, গাঁয়ে ভস্ম মাখে, ত্রিশূল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অপরদিকে গুরুচাঁদ ঠাকুর সমাজসংস্কারক, কল্যাণস্বরূপ, ত্রিশূল নয় – জয় পতাকা বা নিশান নিয়েছেন অনুষঙ্গ হিসেবে, সংসারী হয়েছেন, গার্হস্থ্যধর্মকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় ত্রিশূল নয়, নিশানই প্রাধান্য পাবে। যদি ত্রিশূলেই মতুয়া সমাজের স্থিতি হত তবে গুরুচাঁদ ঠাকুর নিশানকে মান্যতা দিতেন না। বুঝতে হবে, ভাবতে হবে, সমাজ পরিবর্তন, সমাজের বিবর্তন মানতে হবে। গুরুচাঁদ ঠাকুর কল্পনায় শিবের অবতার হতে পারে, শিব নয়। শিবেই যদি কার্যসিদ্ধি হতো তবে গুরুচাঁদ আসতেন না বা গুরুচাঁদ হতেন না। তাই ত্রিশূল নয়, জয় পতাকা বা নিশানই গুরুচাঁদ মন্দিরের চূড়ায় ঠাই পাওয়া উচিৎ।
পৃষ্ঠা: ৩/৬
ঠাকুর পরিবারের চিরাচরিত স্বভাব ও আদর্শিক বিচ্যুতি
আমরা ঠাকুর পরিবারের রক্ত বা বংশমর্যাদাকে অস্বীকার করি না, তবে আদর্শের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, তাদের অনেক কর্মকাণ্ড এখন আর হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের সাম্যবাদী দর্শনের অনুসৃত নয়। বংশমর্যাদার আড়ালে তারা যে রক্ষণশীল বলয় তৈরি করেছেন, তা মতুয়াদের ‘নিচ শ্রেণি’ বা ‘জারজ’ বলে কটাক্ষ করা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শের সাথে আপস করা—তাদের এই চিরাচরিত স্বভাব মতুয়াদের আত্মমর্যাদাকে পদদলিত করছে। মনে রাখতে হবে, বংশের রক্তের চেয়ে আদর্শের তেজ অনেক বেশি শক্তিশালী। আজ মতুয়া সমাজ আর অন্ধ অনুসারী নয়, আমরা আদর্শের অনুসারী। আদর্শবিচ্যুত হলে যেকোনো নেতৃত্বকে ছুড়ে ফেলে দিতে বা অমান্য করতে তারা এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না।
প্রতীকী রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
স্বস্তিকা চিহ্নের ইতিহাস ১২,০০০ বছরের পুরনো হলেও মতুয়া দর্শনে এর স্থান নেই। এটি জাদুবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত হয়ে পরবর্তীতে আর্যদের যুদ্ধের মারণাস্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। মতুয়াদের আদি ও অকৃত্রিম প্রতীক কোনো জ্যামিতিক রেখা নয়, বরং ‘দুই বাহু তুলে নৃত্যরত মানুষ’—যা সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত রূপ। প্রাগৈতিহাসিক ধোঁয়াটে চিহ্নের চেয়ে এই মানবিক ভঙ্গিই মতুয়াদের প্রকৃত মঙ্গলের প্রতীক। বিংশ শতাব্দীতে হিটলারের নাৎসি বাহিনী এই চিহ্নকে নৃশংসতা ও ধ্বংসের প্রতীকে পরিণত করেছে। আজ বিশ্বজুড়ে এটি ভীতি ও বিভ্রান্তির উদ্রেক করে। স্বস্তিকার দ্বৈত অর্থ রয়েছে—ডানাবর্তী (ইতিবাচক) ও বামাবর্তী (নেতিবাচক/তান্ত্রিক)। এই ধরণের তান্ত্রিক ও রহস্যময় প্রতীক মতুয়াদের ‘সহজ পথের’ পরিপন্থী। মতুয়ারা সেই সম্প্রদায় যারা "যজ্ঞোপবীত ফেলে, নাচে দু’বাহু তুলে"। যে দর্শনে পৈতা বা তান্ত্রিক চিহ্নের মতো তথাকথিত পবিত্র শৃঙ্খল ফেলে দেওয়া হয়, সেখানে পুনরায় স্বস্তিকার বোঝা চাপানো আত্মবিরোধী।
গণ-অর্থায়ন ও আদর্শিক প্রতারণা
ওড়াকান্দীর মন্দিরটি ভক্তবৃন্দের অনুদানে নির্মিত হচ্ছে। নির্মাণের শুরুতে যে নকশা দেখিয়ে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, সেখানে ত্রিশূল বা স্বস্তিকা ছিল না। পরবর্তীতে অনুদান প্রদানকারী এবং ভক্তদের অগোচরে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি কেবল স্থাপত্যের পরিবর্তন নয়, এটি ভক্তদের বিশ্বাসের সাথে সরাসরি ‘আদর্শিক প্রতারণা’। যারা অর্থ ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের পরামর্শ না নিয়ে একক সিদ্ধান্তে মতুয়া সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রতীক বসানো নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরকে ‘ঈশ্বর’ বা ‘অলৌকিক দেবতা’ ভেবে তাঁদের পৌরাণিক সাজে (ত্রিশূল/স্বস্তিকা) সাজানোর অর্থ হলো তাঁদের সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।
পৃষ্ঠা: ৪/৬
ঠাকুর চেয়েছিলেন প্রতিটি মানুষ যেন তাঁর আদর্শে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হয়। তাঁকে ‘দেবতা’ বানিয়ে পূজা করা সহজ, কিন্তু তাঁর ‘মানুষেতে আর্তি’র আদর্শ পালন করা কঠিন। এই প্রতীকায়ন মূলত ঠাকুরের বৈপ্লবিক মানবিক সত্তাকে আড়াল করার একটি কৌশল।
মতুয়াধর্ম হলো প্রাণের ধর্ম, প্রেমের ধর্ম এবং বিদ্রোহের ধর্ম। এই ধর্মের মন্দিরে কোনো সংহারক অস্ত্র বা ঘৃণার স্মৃতিবাহী চিহ্নের স্থান হতে পারে না। চূড়ায় উড়বে কেবল সেই সাদা বেষ্টনীযুক্ত লোহিত নিশান, যা দেখে শোষিত মানুষের প্রাণ জুড়াবে। মন্দির গাত্রে থাকবে সেই বাহু তোলা নৃত্যরত মানুষের ছবি, যা সাম্যের বার্তা দেবে।
বর্তমানে যা কেবল একটি ‘চিহ্ন’ মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা-ই হবে মতুয়াদের পরিচয় মুছে দেওয়ার হাতিয়ার। যদি ওড়াকান্দীতে ত্রিশূল ও স্বস্তিকা স্থায়ী হয়, তবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মতুয়াবাদ কেবল প্রচলিত হিন্দুধর্মের একটি ক্ষুদ্র শাখা হিসেবে পরিচিতি পাবে। হরিচাঁদ ঠাকুরের সেই ‘আলাহিদা পথ’ এবং ‘নাহি মানে দেব-দ্বিজ’ শ্লোগানটি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে। এটিই হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য—যাতে শোষিত মানুষের নিজস্ব কোনো ভাষা বা প্রতীক অবশিষ্ট না থাকে।
শ্রীধাম ওড়াকান্দীর প্রতিটি ইট, প্রতিটি বালুকণা, মাটির এক একটি কণা যেন চিৎকার করে বলে—এখানে কোনো দেব-দ্বিজের স্থান নেই, এখানে কেবল ‘শুদ্ধ মানুষেতে আর্তি’-ই মূল। ত্রিশূল ও স্বস্তিকা অপসারণ করে ওড়াকান্দীর সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘নিশান’ পুনঃস্থাপন হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শ্রীধাম ওড়াকান্দি কোনো সাধারণ দেব-দ্বিজের মন্দির নয়, এটি আমাদের শোষিত মানুষের বিজয়ের প্রতীক।
তাই আমাদের দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করুন:
প্রথমত: মন্দির চূড়া থেকে অবিলম্বে ‘ত্রিশূল’ অপসারণ করে ‘মতুয়া নিশান’ (জয় পতাকা) পুনঃস্থাপন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: মন্দিরের গাত্র থেকে সকল তান্ত্রিক ও পৌরাণিক ‘স্বস্তিকা’ চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে এবং হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মানবিক আদর্শ প্রচারক প্রতীকসমূহ স্থাপন করতে হবে।
পৃষ্ঠা: ৫/৬
তৃতীয়ত: মন্দিরের স্থাপত্য বা প্রতীকের সাথে জড়িত প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন থেকে মতুয়া সমাজের সচেতন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং ভক্তদের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
আজ আমাদের এই দাবি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়; এটি আমাদের উত্তরসূরিদের কাছে এক স্বচ্ছ ও মুক্ত আদর্শ রেখে যাওয়ার লড়াই। আপনারা যদি সময় থাকতে এই ভুল সংশোধন না করেন, তবে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। আপনাদের এই অগণতান্ত্রিক ও আদর্শবিচ্যুত আচরণের প্রতিটি হিসাব সাধারণ মতুয়া ভক্তরা কড়ায়গণ্ডায় আদায় করবে।
বর্ণিত দাবিসমূহ বাস্তবায়িত না করা হলে মন্দির নির্মাণে অনুদান প্রদানকারী এবং সাধারণ মতুয়ারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে পারে, এমনকি শ্রীধাম ওড়াকান্দি গিয়ে মন্দিরে ইতোমধ্যে স্থাপিত ত্রিশূল নামিয়ে ‘জয় পতাকা (নিশান)’ স্থাপনের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
শ্রীধাম ওড়াকান্দির পবিত্রতা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা হোক—এই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।
নিবেদক,
শ্রীশ্রীহরি-গুরুচাঁদ মতুয়া সমাজের পক্ষে
(সৌরভ রায়)
সাধারণ সম্পাদক।
(ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার)
সভাপতি।
অনুলিপি: ঠাকুর পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
পৃষ্ঠা: ৬/৬