মতুয়া দর্শনে স্বাগত।
হরিঅব্দ – মতুয়াদের স্বতন্ত্র বর্ষপঞ্জি।
যেকোনো ধর্ম স্বতন্ত্র ধর্ম হিসেবে পরিচিতি অর্জন করতে হলে তার স্বতন্ত্র বর্ষপঞ্জি থাকা প্রয়োজন।
সৃষ্টির ক্রমবিকাশে মানবপ্রকৃতির অনুভূতি পরস্পর প্রকৃতিনির্ভর সম্পর্ক স্থাপনে ও চেতনা বিকাশে মানবপ্রজাতি তথা হোমোস্যাপিয়েন্সরা আনুমানিক ৫০ হাজার বছর আগে তথা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে পথপরিক্রমায় সংস্কৃতি, ভাষা, শ্রুতিপরম্পরা শিক্ষা, চিত্র, চেতনা যুক্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে সভ্যতা বিবর্তনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নানা আবিষ্কার প্রবাহমান রয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্সদের ভাবনায় আসে সর্বপ্রাণবাদ। কালের পরিক্রমায় মানুষ আত্মসর্বস্ব হয়ে উঠায় পৃথিবীতে বৈষম্য-হানাহানি সৃষ্টি হতে থাকে। তথাপিও মানুষ জীবতাবাদের বৈষম্যহীন চৈতন্য ধারণ করেছে, যার বিকশিতরূপ – ‘সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম’, অধুনা যা ‘মতুয়াধর্ম’ নামে বিকাশ লাভ করছে। দর্শন, শিক্ষা, সঙ্গীত, বাদ্য,পঞ্জি, পটের মাধ্যমে এই সূক্ষ্ম সনাতনী তথা মতুয়া ধর্মের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিবর্তিত হয়ে আসছে।
সভ্যতার সূচনালগ্নে গুহাবাসী মানুষ পাহাড় বা গুহায় ছবি এঁকে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে তেমনই সর্বপ্রাচীন গুহাচিত্রটি আঁকা হয় আনুমানিক ৫১,২০০ বছর আগে। বিবর্তনের ধারায় সেসব গুহাচিত্র বিভিন্ন মাধ্যমে সংরক্ষণের জন্য কঠিনশিলা, মাটির ফলক, কাপড়, কাঠ, চিনামাটি, ফাইবার, কংক্রিট, টাইলস থেকে আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সভ্যতা বিবর্তনের ধারানুযায়ী ‘মতুয়াধারা’ বিকাশে বিভিন্ন মাধ্যমে চিত্রিত ১২টি চিত্র দিয়ে ২১৫ হরিঅব্দের বর্ষপঞ্জি সাজানো হয়েছে।
মতুয়াদের প্রতি অনুরোধ – তাঁরা যেনো তাঁদের বিভিন্ন কাজে বঙ্গাব্দ বা খ্রিষ্টাব্দের সঙ্গে সঙ্গে হরিঅব্দের তারিখ ও বার লেখার প্রচলন করেন। হরিঅব্দের বহুল প্রচলন মতুয়া দর্শন ও মতুয়াধর্মকে স্বতন্ত্রতা অর্জনের লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে নিবে – এই প্রত্যাশা।
‘হরিঅব্দ’ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে – ‘শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া সমাজ’